আমেরিকার গিরিখাত

পৃথিবীর ভূ প্রকৃতির এক বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো গিরিখাত গুলোর সবচেয়ে দুর্দান্ত ব্যাপার হলো এদের সূর্য পারি এবং গভীরতা পৃথিবীর বহু পার্বত্য অঞ্চল জুড়ে এ ধরনের গিরিখাত দেখতে পাওয়া যায় কিছু গিরিখাত এর মধ্য দিয়ে বয়ে চলা নদী আবার কিছু গিরিখাত শুধুমাত্র মৌসুমী জলের প্রবাহ বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘ সবচেয়ে প্রশস্ত অথবা সবচেয়ে গভীর ধরনের কোনো বৈশিষ্ট্য না থাকা সত্বেও বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় গিরিখাতের তকমাটি অর্জন করে নিয়েছে গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থিত লক্ষ কোটি বছরের পুরনো এই প্রাকৃতিক ভূতাত্ত্বিক গবেষণার জন্য জ্ঞানীদের তীর্থস্থান।

পৃথিবীর প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চর্যের অন্যতম গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন সম্পর্কে জানব কী কেন কীভাবে এই পর্বে ভিডিও শুরু করার আগে অনুরোধ করবো আপনি যদি এই চ্যানেলে নতুন হয়ে থাকেন তাহলে কি কেন কিভাবে সাবস্ক্রাইব করে বেল আইকনটিতে ক্লিক করুন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনায় অঙ্গরাজ্যে অবস্থিত একটি বিখ্যাত প্রাকৃতিক আশ্চর্য গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন গিরিখাত এর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন এর দৈর্ঘ্য প্রায় সাড়ে চারশো কিলোমিটার সর্বনিম্ন 6 কিলোমিটার থেকে সর্বোচ্চ ২0 কিলোমিটার বিস্তৃত এবং 14 বিস্তৃত এবং এর গভীরতা প্রায় ছয় হাজার ফুট লক্ষ লক্ষ বছর ধরে কলোরাডো নদীর স্রোত এই খাতের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে নদীর স্রোতের সাথে সাথে এখানকার মাটি ক্ষয় প্রাপ্ত হয়ে গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন এর গভীরতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন এর প্রকৃত বয়স এবং এর সৃষ্টির প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের মধ্যে বিতর্ক রয়েছে।

তবে এর দুই পারের মাটির স্তর যেন উন্মুক্ত জাদুঘর প্রাগৈতিহাসিক অবকাঠামোর সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায় এখানকার বিভিন্ন আলামত থেকে গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের তলায় প্রাপ্ত পাথর প্রায় 2 বিলিয়ন বছর 200 কোটি বছরের পুরোনো এবং উপরের দিকে পাওয়া পাথরের বয়স কমপক্ষে 23 কোটি বনসল এই একটি দিক থেকেই গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন ও গিরিখাত গুলোর থেকে আলাদা গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন পৃথিবীর 200 কোটি বছরের ইতিহাসে উন্মুক্ত বইয়ের পাতার মতো আমাদের সামনে মেলে ধরেছে আমেরিকান ভূতত্ত্ববিদ 1869 সালে সর্বপ্রথম গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন এর পূর্ণাঙ্গ অভিযান পরিচালনা করেন তিনি একে গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন নামকরণ করেন অভিযান এর আগে এই গিরিখাত ও ক্যানিয়ন ক্যানিয়ন নামে পরিচিত ছিল919 সালে গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন কে আমেরিকার 17 তম জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষণা করা হয় এটি পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘ সবচেয়ে প্রশস্ত বা সবচেয়ে গভীর গিরিখাত এর কোনোটি নয় তবে একে পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় গিরিখাত চলাচলের কারণ প্রতি বছর প্রায় 50 লক্ষ পর্যটক গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন এর সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসেন ধারণা করা হয়।

এ নিয়ে প্রায় হাজার খানেক এর ও বেশী আশ্চর্য রকমের গুহা রয়েছে তবে এখনো পর্যন্ত মাত্র 335 টিকা আবিষ্কার করা যাচ্ছে তার মধ্যে মাত্র একটি গুহা সর্বসাধারণের প্রবেশের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে আমেরিকার রেড ইন্ডিয়ান আদিবাসীরা এই গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের পারে প্রায় 10 হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে বসবাস করে আসছে স্থানীয় আদিবাসীদের কাছে এই প্রাকৃতিক অঞ্চল অত্যন্ত পবিত্র তারা মনে করে এই গিরিখাত তাদের জীবনের প্রবেশদ্বার তাদের বিশ্বাস মতে মৃত্যুর পরে তাদের আত্মা এই নদীর উজানে অন্তিম গন্তব্যের দিকে পরিচালিত হয় গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন এর ভেতরে বর্তমান সময়ে একটি আদিবাসী গ্রাম রয়েছে গ্রামটির নাম সুপারি 2010 সালের সর্বশেষ আদমশুমারি অনুযায়ী এই গ্রামের জনসংখ্যা মাত্র 208 জন এটি আমেরিকার সবচেয়ে প্রত্যন্ত গ্রাম বর্তমান ইন্টারনেটের যুগে এই গ্রামের পিঠে চড়ে চিঠিপত্র বিলি করা হয় গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের খাবে আমাদের মত নানা রঙের মাটি ও পাথরের সজ্জিত দিনের বিভিন্ন সময়ে সূর্যের আলোর ভিন্নতার কারণে গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের দেয়ালের রঙের নাটকীয় পরিবর্তন লক্ষ করা যায় আশ্চর্য সুন্দর এই গোলকধাঁধা নিঃসন্দেহে পৃথিবীর সেরা প্রাকৃতিক দৃশ্য গুলোর একটি পৃথিবীর প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চর্যের আরেকটি বিষয় হলো অরণা মেরু অঞ্চলের রাতের আকাশে এক ধরনের আলোর প্রদর্শনী দেখা যায় এই আলোকরশ্মি গুলোই হলো অরণা বাংলায় একে বলা হয় মেরুজ্যোতি শুধুমাত্র উত্তর ও দক্ষিণ মেরুতে এই আলোর খেলা দেখা যায়

 

Leave a Comment

Your email address will not be published.